Category: মতামত

  • বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুরে আইসিইউতে ভর্তি

    বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুরে আইসিইউতে ভর্তি

    বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক এবং সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা Mirza Abbas–কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে Singapore General Hospital–এর নিউরোসায়েন্সেস বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    রোববার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন Rafiqul Islam। তিনি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে মির্জা আব্বাস নিরাপদে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যে তাঁর স্বাস্থ্যপরিস্থিতি পরীক্ষা করেছেন এবং যাত্রাপথে তাঁর কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।

    এর আগে রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

    ৭৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিক গত বুধবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাঁকে রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka–এ ভর্তি করা হয়। সেখানে নিউরো বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

    চিকিৎসকেরা শুক্রবার তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেন, যা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাঁকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    পরিবার ও দলের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে বিউটি পারলারের আড়ালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    বাংলাদেশে বিউটি পারলারের আড়ালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলা শহরে একটি বিউটি পারলারের আড়ালে এক তরুণীকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে অভিযানে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পারলারটির মালিক রত্না ইয়াছমিন (৪০), তাঁর ছেলে মো. তুষার রহমান (২৪) এবং তাজনীন আক্তার ওরফে চাঁদনী (২৩)। মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে, তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়।

    ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাঁকে মানিকগঞ্জের Manikganj 250-Bed General Hospital–এ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি পারলারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ যৌন ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া তরুণী ওই পারলারে কাজ করতেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার ভুক্তভোগীর বাসায় তাঁর ছোট বোন বেড়াতে গেলে অভিযুক্তরা তাকেও একই কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়ে তাঁকে মারধর করে জোর করে পারলারে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধাতব রড দিয়ে আঘাত করা হয়, হাত বেঁধে আটক রাখা হয় এবং কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। তাঁর মুখে কালি মেখে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    Ekram Hossain, Manikganj Sadar Police Station–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জানান যে ভুক্তভোগী পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাপে ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধ ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে চাপে ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে

    ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, এর অর্থনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ এখনো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করায় পরিবহন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসাসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতে ধীরে ধীরে তার প্রভাব পড়ছে।

    তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আত্মবিশ্বাসী অবস্থান বজায় রেখেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে তিনি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর মতে, এতে ভেনেজুয়েলার তেল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার সম্ভব হয়েছে এবং কিউবার ওপরও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে, কারণ তাদের জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানও শেষ পর্যন্ত একই ধরনের কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, তবুও ট্রাম্পের অবস্থান বদলায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে—যদিও সেই ‘জয়’ কেমন হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। তাঁর ভাষায়, বর্তমানের মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য “খুবই সামান্য মূল্য”।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাস্তবতা

    জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নত অর্থনীতির চেয়ে বেশি সুরক্ষিত অবস্থায় আছে। গত দুই দশকে দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৩৮ শতাংশ তেল থেকে আসে। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময় এই হার ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশীদারত্ব ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

    তবুও বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়নি। ইরান হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করায় ইউরোপীয় বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। একই সময়ে কাতারের তরলীকৃত গ্যাস স্থাপনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ

    যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ইতিমধ্যে প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৫০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, খুচরা পেট্রলের দাম ২০২৫ সালের স্তরে ফিরতে ২০২৭ সালের শরৎ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ডিজেলের দামও অন্তত আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় নামার সম্ভাবনা কম।

    জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ও কৃষি খাতে সরাসরি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। পরিবহন কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপালে পণ্যের দামও বাড়তে পারে। জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি করছে।

    ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্চ থেকেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়তে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

    রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক। অতীতে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষেত্রে মার্কিন জনমতের বিরোধিতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    যুদ্ধের উচ্চ ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মিলিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজকে সামরিক নিরাপত্তা ও বিমা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার কিছু তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল এবং ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর উপায়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

    মন্দার শঙ্কা

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যখন তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান হয়ে থাকে, তখন প্রায়ই অর্থনৈতিক মন্দা দেখা গেছে। যদি তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৪০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রেও মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বা সেখানে সামরিক বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।

    অনিশ্চিত যুদ্ধ

    ট্রাম্প একদিকে তেহরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করছেন, অন্যদিকে বলছেন যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে দ্রুত কোনো স্থায়ী বিজয় অর্জন করা কঠিন।

    ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের হাজার হাজার যোদ্ধা এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তারা দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। ফলে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

  • তালতলীতে বরাদ্দকৃত সার ২’শ কৃষকের মাঝে বিতরণ

    তালতলীতে বরাদ্দকৃত সার ২’শ কৃষকের মাঝে বিতরণ

    বরগুনার তালতলী উপজেলায় চলমান সার সংকটের মধ্যেও কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের উপস্থিতিতে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স–এর গুদাম থেকে প্রায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে সার বিতরণ করা হয়।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে অবস্থিত মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স–এর গুদামে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সরাসরি কৃষকদের হাতে সার তুলে দেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়বগী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স–এর নামে সরকারিভাবে ২০০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে সারগুলো ডিলারের গুদামে পৌঁছালে উপজেলা কৃষি বিভাগের তদারকিতে পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ইউনিয়নের প্রায় ২০০ জন কৃষকের মাঝে তা বিতরণ করা হয়।

    সার বিতরণের সময় স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক কৃষক নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের বরাদ্দকৃত সার সংগ্রহ করেন। এতে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমেছে বলে জানান তারা।

    চলতি মৌসুমে উপজেলায় সারের ঘাটতির অভিযোগ ওঠায় কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের উপস্থিতিতে সার বিতরণ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    সার পাওয়া কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, “বর্তমান সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন ধরে সার সংকটের খবর শুনে আমরা চিন্তায় ছিলাম। এখন সার পেয়ে জমিতে ব্যবহার করতে পারবো। এতে চাষাবাদ চালিয়ে যেতে সুবিধা হবে।”

    বিসিআইসি ডিলার মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স–এর মালিক খলিলুর রহমান বলেন, “সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী আমাদের নামে ২০০ বস্তা সার এসেছে। কৃষি বিভাগের উপস্থিতিতে তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝেই আমরা সার বিতরণ করেছি।”

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, “ওই ডিলারের নামে ২০০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত সার গুদামে আসার পর আমরা উপস্থিত থেকে ২০০ জন কৃষকের আইডি কার্ড সংরক্ষণ করে তাদের মাঝেই সার বিতরণ করেছি। এখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের বিষয় আমরা পাইনি।”

    তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত তদারকি করছে। কোথাও যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক রয়েছি।”

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়মনসিংহে মশক নিধন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়মনসিংহে মশক নিধন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

     Mymensingh: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। শনিবার দুপুরে নগরীর Mymensingh Town Hall প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ সদর–৪ আসনের সংসদ সদস্য Abu Wahab Akond। উদ্বোধনের পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের অন্যান্য জেলার মতো ময়মনসিংহেও সময়ের আগেই মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ড্রেন, খাল, পরিত্যক্ত জায়গা ও জলাবদ্ধ স্থানে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণাও চালানো হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মশা নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচিও চালু থাকবে বলে জানানো হয়।

  • প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিং

    প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ময়মনসিংহে প্রেস ব্রিফিং

    Mymensingh: প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ময়মনসিংহে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টায় নগরীর জেলা রোভার স্কাউট ভবনের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

    Bangladesh NGOs Network for Radio and Communication (BNNRC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিং আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ। এ কর্মসূচির আওতায় পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহসহ ছয়টি জেলায় একই ধরনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রায় ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ২৩ জন সাংবাদিক ও ২ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন। আয়োজকরা বিশেষভাবে নারী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেন, যাতে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়ে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, হুমকি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, ভুয়া তথ্য প্রচার ও অপপ্রচারসহ নানা ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা নারীদের অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কার্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, নারীদের নিরাপদ ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন, ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন এবং রাষ্ট্র, সুশীল সমাজ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

    এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় নারী ও কিশোরীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং জবাবদিহিতামূলক ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সকলের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনএনআরসি’র ময়মনসিংহ জেলা ফোকাল পার্সন স্বাধীন চৌধুরী কার্যপত্র উপস্থাপন করে বিষয়টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এ বিষয়ে মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

  • ময়মনসিংহে জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    ময়মনসিংহে জাতীয় নাগরিক পার্টির বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর উদ্যোগে ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৪টায় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ-এর দক্ষিণাংশে (জিমনেসিয়ামের পিছনে) এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আতিকুল ইসলাম সরকার। ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, এমপি, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্বাস হোসেন এমপি ও সদস্য সচিব, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও যুগ্ম আহ্বায়ক, মোঃ মাজহার কবির আহ্বায়ক, জাতীয় শ্রমিক শক্তি, লুৎফর রহমান যুগ্ম সদস্য সচিব, আশেকীন আলম রঞ্জন যুগ্ম সদস্য সচিব ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ডা. জাহিদুল ইসলাম সদস্য সচিব, জাতীয় যুব শক্তি, জাহিদ আহসান সভাপতি, জাতীয় ছাত্র শক্তি এবং তানহা শান্ত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় শ্রমিক শক্তি।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, এনসিপি জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য এটিএম মাহবুবুল আলম। এছাড়া আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এডভোকেট মাহবুবুল আলম, শায়খ আল মামুন (জামালপুর) ও ইঞ্জি. লিখন মিয়া (শেরপুর) উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার।

    ইফতার মাহফিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বার্তা দেন। নেতারা বলেন, সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে ইউএনও কার্যালয়ে তাণ্ডব: বিএনপির বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ঠাকুরগাঁওয়ে ইউএনও কার্যালয়ে তাণ্ডব: বিএনপির বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে মব বা জনতা তৈরি করে নিয়োগ পরীক্ষার নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদের নিয়োগ পরীক্ষা চলছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী হঠাৎ ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করেন।
    উক্ত দলে উপজেলা বিএনপির নেতা ইরফান আলী, যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক এবং মোখলেসুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা শুরুতেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অবৈধ ও ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’ হচ্ছে বলে দাবি তুলে তা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ইউএনও রায়হানুল ইসলামের সাথে কথা বলছেন। জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি মহাসচিবের সাথে কথা বলে তবেই গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলা অফিসে ক্লায়েন্ট নিয়ে এসে বাণিজ্য করছেন।”
    জবাবে ইউএনও শান্তভাবে বলেন, “অফিস আমাদের ২৪/৭ (চব্বিশ ঘণ্টা)। আমি কখন অফিস করব তা একান্তই আমার বিষয়।”
    তর্কাতর্কির একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন রাজনৈতিক হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দেবেন, আর আমরা কি ললিপপ চুষব? এটা তো হবে না।” জবাবে ইউএনও পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, নিয়োগে কোনো অবৈধতা থাকলে তারা যথাযথ বোর্ডে অভিযোগ না করে কেন এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
    বাকবিতণ্ডার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের নির্দেশে উপস্থিত কর্মীরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের ওপর চড়াও হন। তারা জোরপূর্বক নিয়োগ পরীক্ষার খাতা, প্রশ্নপত্র এবং রেজাল্ট শিটসহ যাবতীয় নথিপত্র ছিনিয়ে নেন।
    ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ আবেগাপ্লুত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “তারা আমার কাছ থেকে খাতা-পত্র কেড়ে নিলে আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি ফেরত দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনেই সব নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।”
    অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইউএনও গোপনে টাকা খেয়ে চারজনকে নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তাই সাধারণ কর্মীরা এর প্রতিবাদ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ছিনিয়ে নেওয়া কাগজপত্র পরে ইউএনও অফিসের ভেতরেই ফেলে আসা হয়েছিল।
    তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক মব তৈরি করে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং নথিপত্র লুট করেছে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আমরা এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
  • বিচার বন্ধের আর্জি নেতানিয়াহুর

    বিচার বন্ধের আর্জি নেতানিয়াহুর

    ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর ১২ দিন পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতির চেয়েও নিজের ব্যক্তিগত আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি সরব ছিলেন।
    দীর্ঘদিন ধরে চলা নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলোকে ‘অযৌক্তিক সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে তাকে যেন সাধারণ ক্ষমা প্রদান করা হয়।
    নেতানিয়াহুর দাবি, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার জন্য এই আইনি বাধা দূর করা জরুরি। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্টকে কেবল ‘সঠিক কাজটি’ করতে হবে। এই মামলা শেষ করা উচিত যাতে আমি কোনো পিছুটান ছাড়াই রাষ্ট্রের শত্রুদের পরাজিত করা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জোটে মনোযোগ দিতে পারি।”
    প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বর্তমানে নেতানিয়াহুর এই ক্ষমার আবেদনটি পর্যালোচনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তার সময় ও শ্রম আদালতের বারান্দায় নষ্ট হওয়া রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সামনে অনেক বড় কাজ রয়েছে। আমি কোনো ধরনের বাধা বা বিভ্রান্তি ছাড়াই দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”
    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নেতানিয়াহু সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়ে কেবল রেকর্ড করা বিবৃতি প্রচার করে আসছিলেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বড় একটি অংশ সরকারের এই লুকোচুরির সমালোচনা করে আসছিল। হোয়াইট হাউসের মতো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো নিয়মিত ব্রিফিং কাঠামো না থাকায় তথ্যের বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
    বর্তমানে সামরিক মুখপাত্র এফি দেফরিন নিয়মিত ব্রিফিং করলেও তিনি কেবল সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী বা বেসামরিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই থেকে যাচ্ছে। এই তথ্য শূন্যতা এবং নিজের ব্যক্তিগত মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতি-তৎপরতা জনমনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই নিজের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। যদি প্রেসিডেন্ট তাকে ক্ষমা করে দেন, তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকার রসদ পাবেন। তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বিচার এড়ানোর কৌশল’ হিসেবে দেখছে।
  • নর্দ্দায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    নর্দ্দায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    রাজধানীর অভিজাত এলাকা সংলগ্ন নর্দ্দায় শুক্রবার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কুড়িল বিশ্বরোড ও নর্দ্দা ব্রিজের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
    ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টা ৮ মিনিটে প্রথম আগুনের খবর পাওয়া যায়। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
    ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, নর্দ্দা ব্রিজের নিচে ফুটপাতের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এবং ব্যস্ততম এলাকা হওয়ায় শুরুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দূর থেকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল। ব্রিজের নিচে থাকা বেশ কিছু অস্থায়ী দোকান ও মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
    আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর ওই এলাকায় যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হলেও পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিকের দিকে।