Category: রাজনীতি

  • বিএনপির নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

    বিএনপির নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য: নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

    কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিঃশর্ত ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তিনি এ সংক্রান্ত পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ে একটি ক্লোজড গ্রুপে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ৪ মার্চ এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে একটি শিশুকেও কথা বলতে শোনা যায়, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করেছে।

    হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “ভিডিওটির জন্য আমি নিঃশর্তভাবে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। এটি করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন পুনরায় না ঘটে এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে—তা নিশ্চিত করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

    তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করার সংস্কৃতিকে আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই সবার প্রত্যাশা।”

  • শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল ফ্রান্স

    শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল ফ্রান্স

    ইরানে হামলায় অংশ না নেওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ফরাসি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দেশটির সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

    ফরাসি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক সহায়তামূলক কিছু বিমানকে ফ্রান্সের একটি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিমান ইরানে কোনো ধরনের হামলায় অংশ নেবে না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণ নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

    ফ্রান্সের সামরিক সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অপারেশনাল সহায়তামূলক মার্কিন বিমানগুলো ফ্রান্সের ইস্ত্রেস বিমান ঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি পেয়েছে। তবে এগুলো যুদ্ধবিমান নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্স স্পষ্টভাবে শর্ত দিয়েছে যে, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে পরিচালিত কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। বরং সেগুলো কেবল ওই অঞ্চলে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হবে।

    অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৪ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়। এর ফলে তেহরান কিছু আরব দেশের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যা মানবিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে।

    মস্কো এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি এমন দিকে ঠেলে দিচ্ছে যাতে আরব দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়িয়ে ফেলা যায়।

  • আজারবাইজানে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান

    আজারবাইজানে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান

    আজারবাইজানের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজারবাইজানের দিকে কোনো ধরনের ড্রোন পাঠানো হয়নি।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে, বিশেষ করে মুসলিম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তাই আজারবাইজানের দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তেহরান।

    এর আগে আজারবাইজান অভিযোগ করে, তাদের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এ বিষয়ে ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে ইরান ওই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।

    আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে একটি ড্রোন নাখচিভানের বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হানে। একই সময় আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুলের কাছাকাছি এলাকায় পড়ে।

    এ ঘটনায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে দাবি করেছে আজারবাইজান।

    আজারবাইজান সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে, ড্রোনগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তেহরানের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটি এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

    ঘটনার প্রতিবাদে আজারবাইজানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা দেমিরচিলোকে তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের শামিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাকু।

  • ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানো কি সম্ভব? ক্লান্ত সেনাবাহিনী ও অর্থনৈতিক চাপে ইসরায়েল

    ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানো কি সম্ভব? ক্লান্ত সেনাবাহিনী ও অর্থনৈতিক চাপে ইসরায়েল

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দাবি করছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিস্থিতি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় চলমান সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

    গত শনিবার ইরানে হামলার পর থেকে ইসরায়েল বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। এতে দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারি করতে হয়েছে, বন্ধ রাখতে হয়েছে স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হয়েছে।

    Tel AvivHaifa–র মতো বড় শহরগুলো টানা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মানুষকে বারবার বাংকার ও শেল্টারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে, ফলে সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে ইসরায়েলি জনগণ অভ্যস্ত নয়।

    তবে আপাতত ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন বেশ দৃশ্যমান। বহু নাগরিক মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে যাকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখানো হয়েছে—সেই Iran–এর মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। কট্টর বামপন্থী দল ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক শক্তিই সরকারের পাশে অবস্থান নিয়েছে।

    ইসরায়েলি অর্থনীতিবিদ Shir Hever মনে করেন, যুদ্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে এক ধরনের সামরিক উন্মাদনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, এটি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময়কার পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। তখন মানুষের মধ্যে অস্তিত্বের সংকটের ভয় ছিল, কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও যুদ্ধমুখী মনোভাব।

    অন্যদিকে Tel Aviv University–এর শিক্ষক Daniel Bar-Tal বলেন, ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে বড় শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে স্কুল ও সেনাবাহিনী—সব জায়গাতেই এই ধারণা গভীরভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।”

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ইসরায়েলি সমাজে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। আগে যাঁরা প্রান্তিক পর্যায়ের উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিক ছিলেন, তাঁরা এখন সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক তরুণ ও মেধাবী নাগরিক দেশ ছাড়ছেন।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক Hamze Attar মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তার ওপর। তিনি জানান, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ইসরায়েলের দিকে ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

    ইসরায়েল প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর রকেট ব্যবহার করে থাকে। তবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা ব্যয়বহুল ও কঠিন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক স্থাপনা রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে, ফলে সাধারণ নাগরিকদের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা দেশটির মজুত দ্রুত বাড়াচ্ছে।

    অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ইসরায়েলের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযানে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এতে দেশটি সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ে।

    ২০২৫ সালের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারেও। বিশ্বের তিনটি বড় ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং কমিয়ে দিয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ Shir Hever সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল বর্তমানে ঋণসংকট, জ্বালানিসংকট, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা সংকটের মতো নানা চাপে রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে উন্নত অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তাহলে এসব অর্থনৈতিক চাপও দেশটির সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামাতে নাও পারে।

  • ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কানাডার অবস্থান নরম

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কানাডার অবস্থান নরম

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে কানাডা অংশ নিতে পারে—এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা যাচ্ছে না।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese–এর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী Canberra–তে এক যৌথ বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন কার্নি। এ সময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কানাডা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

    তবে এর আগে Mark Carney ইরানে United StatesIsrael–এর যৌথ হামলার সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কানাডা তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশে থাকবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

    বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কানাডার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

    সূত্র: Al Jazeera

  • বগুড়া সফর স্থগিত, ১০ মার্চ কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    বগুড়া সফর স্থগিত, ১০ মার্চ কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন

    বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী সেখানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনকালীন বিধিনিষেধের কারণে সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১০ মার্চ রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

    এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ সফরকালে জানিয়েছিলেন, ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় এসে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

    বগুড়া জেলা প্রশাসক জানান, উপনির্বাচন চলমান থাকায় ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী কোনো সরকারি কর্মসূচি রাখেননি।

    পাইলট প্রকল্পে ১৪ উপজেলায় কার্যক্রম

    জানা গেছে, পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

    যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন–এর বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি; মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক বস্তি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি বস্তি;
    বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া;
    রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    চট্টগ্রাম–এর পতেঙ্গা উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    খুলনা–র খালিশপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি ওয়ার্ড;
    এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ড।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান শিয়া ধর্মীয় নেতা আল-হাইদারির

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান শিয়া ধর্মীয় নেতা আল-হাইদারির

    শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। খবর জানিয়েছে Shafaq News

    বিবৃতিতে আল-হাইদারি মুসলমানদের নিজ নিজ ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি ইহুদি ও আমেরিকানদের ‘অহংকারের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।

    শিয়া ধর্মীয় মতবাদ অনুযায়ী, জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বিবেচিত হয়, আক্রমণাত্মক নয়। বিশেষ করে দ্বাদশ শিয়া মতাদর্শে এ ধরনের ঘোষণার ধর্মীয় কর্তৃত্ব একজন মারজা’ আল-তাকলিদের হাতে ন্যস্ত থাকে, যিনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় অনুসরণীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

    এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী Islamic State (আইএসআইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই আহ্বানের পর গড়ে ওঠে Popular Mobilization Forces (পিএমএফ)।

    অন্যদিকে, ইরানপন্থি বহু শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে মান্য করে থাকে।

  • ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে, আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে, আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নেই: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসার ইচ্ছা তার নেই।

    ট্রাম্প বলেন, ইরান পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে ইরানের বিমান ও নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পাশাপাশি কমান্ড ও কন্ট্রোল কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযানের প্রধান লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং ইরান এখন দ্রুত সেনা পুনর্গঠন বা কার্যকর জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছে।

    গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি, তার উপদেষ্টা আলি শামখানি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এবং কুর্দিস্তান এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

  • উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের রুমেইলা তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ

    উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের রুমেইলা তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ

    ইরাকের বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলক্ষেত্র রুমেইলা তেলক্ষেত্র-এ তেল উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে Shafaq News

    রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে তেল সংরক্ষণ ট্যাংকগুলো পূর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন করে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে ইরাকি সেনাবাহিনী আল-জুবায়র জেলার তেলক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাঁজোয়া যান মোতায়েন করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় অবস্থান নিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি Gulf Keystone Petroleum ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের শাইকান তেলক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্যক্রম বন্ধ করেছে। একইভাবে দুবাইভিত্তিক Dana Gas এবং অসলোভিত্তিক DNO নিজ নিজ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • ইরান ইস্যুতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে দেরি, স্টারমারের ওপর ক্ষোভ ট্রাম্পের

    ইরান ইস্যুতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে দেরি, স্টারমারের ওপর ক্ষোভ ট্রাম্পের

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়াবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে দেরি হওয়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    সোমবার (২ মার্চ) Al Jazeera-র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ব্রিটিশ দৈনিক The Telegraph-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমোদন পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে।

    বিশেষ করে চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, দুই দেশের সম্পর্কে এ ধরনের পরিস্থিতি আগে ঘটেনি এবং বিষয়টি আইনি বৈধতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিলম্বিত হয়েছে বলে তার ধারণা।

    ইরানের হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহত

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের হামলায় চার মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গুরুতর আহত এক সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে।

    সেন্টকম আরও জানায়, সামরিক অভিযান এখনো চলমান এবং প্রতিক্রিয়ামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত না করা পর্যন্ত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।

    এছাড়া কুয়েতে বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমান নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে সেন্টকম। তাদের দাবি, রোববার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের কারণে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।