আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সদর উপজেলার সকল ইউনিয়নে ১০ কেজি করে চাল (ভিজিএফ) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই ‘ঈদ উপহার’ বিতরণের জন্য গঠিত তদারকি কমিটিতে রাজনৈতিক বৈষম্য এবং কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে চাল বিতরণের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি কমিটিতে বিএনপির ২ জন করে সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু একই এলাকায় সক্রিয় থাকা জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধিকে এই কমিটিতে রাখা হয়নি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রাধান্য থাকায় কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
স্থানীয়দের দাবি, কমিটিতে ভারসাম্য না থাকায় প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদের নাম বাদ দিয়ে সচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কার্ড বিতরণে একপাক্ষিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়নবাসী জানান, “সরকারি সহায়তা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট দলের লোক থাকায় তারা নিজেদের অনুসারীদের কার্ড দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য দলের সমর্থকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী দুস্থদের তালিকা করার কথা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে জামায়াতের প্রতিনিধিদের কেন রাখা হয়নি বা কার্ড বিতরণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের দাবি, পবিত্র ঈদের আগে এই মানবিক সহায়তা যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা স্বজনপ্রীতির শিকারে পরিণত না হয়। প্রকৃত হকদারদের কাছে চাল পৌঁছে দিতে একটি নিরপেক্ষ তদারকি কমিটি গঠনের জন্য তারা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেছেন, অতীতে আদালতের রায় রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো বলে অভিযোগ ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংস্কৃতি শেষ হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকায় আয়োজিত আইনজীবী অধিকার পরিষদ ঢাকা বার ইউনিটের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নূরুল হক নূর বলেন, অতীতে অনেকেই মনে করতেন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরাসরি গণভবন থেকে নির্ধারিত হয়ে আসত। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, আইনের শাসন শক্তিশালী করতে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে আইনজীবীদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তার ও জোরজবরদস্তির ঘটনা ঘটেছিল এবং বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী অধিকার পরিষদ ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক মো. মমিনুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য দেন হাসান আল মামুন, ফারুক হাসান এবং আবু হানিফসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান। এ সময় আইনজীবী অধিকার পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









