মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধভাবে গ্যাস ও জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সাতগাঁও ও রুস্তমপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মহিবুল্লাহ আকন্দ।
এসময় অভিযানে সহযোগিতা করেন পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB-9) এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
অভিযানে সাতগাঁও ও রুস্তমপুর এলাকার দুটি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাস মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘ন্যাশনাল ট্রেডিং’-এর মালিক সত্যজিৎ সরকার এবং ‘শান্ত এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক শান্ত সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহিবুল্লাহ আকন্দ জানান, অভিযানে প্রায় ৩০ হাজার কেজি এলপিজি গ্যাস অবৈধভাবে মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Category: রাজনীতি
-

শ্রীমঙ্গলে অবৈধ গ্যাস-তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ১ লাখ টাকা
-

কালিয়াকৈরে ট্রাকের চাপায় পৃষ্ট হয়ে এক নারী নিহত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন।
২৭ মার্চ শুক্রবার সকালে উপজেলার এপেক্স ফুটওয়্যার কারখানার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত নারী সিরাজগঞ্জ থেকে তার ছেলেকে দেখতে কালিয়াকৈরে এসেছিলেন। তার ছেলে হরিণহাটি এলাকায় বসবাস করেন। এপেক্স ফুটওয়্যার কারখানার সামনের সড়ক পার হলেই ছেলের বাসা ছিল। কিন্তু রাস্তা পারাপারের সময়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
স্থানীয়রা জানান, ট্রাকের চাপায় নারীর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, যা উপস্থিত লোকজনকে শোকাহত করে তোলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
কোনাবাড়ী নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাতুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
-

আশুলিয়ায় চিকিৎসকের গাড়ি পুড়িয়ে দিল আ.লীগ নেতা
ঢাকার আশুলিয়ায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেলের ব্যক্তিগত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত (২৭ মার্চ) রাত ২টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইল গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে তিনি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে তার ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭-৩৩০২ নম্বরের ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারটি রাখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, রাত ২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই গাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডা. রাসেলের চাচাতো ভাই ডাঃ সোহেল আরমান ও মোঃ নিজাম উদ্দিন। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার এক মাস আগে ডা. রাসেলের নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে সাবমারসিবল পাম্প ও তিন টন রড চুরির ঘটনাও ঘটে, যেখানে একই অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ডা. রাসেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা হাজী মোঃ আব্বাস উদ্দিন, চাচা আফাজ উদ্দিন, ইমতিয়াজ উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত করা হয়। ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত হানিফ মিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও তার ভাই নুর উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন হানিফ মিয়া ও তার লোকজন। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিশোধমূলকভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত হানিফ মিয়া পলাতক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের অনুসারী এবং এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, নিরীহ মানুষকে মারধর ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতনসহ এসব ঘটনায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, ডাঃ কায়কোবাদ হোসেন রাসেল জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়া এলাকায় আহতদের নিজস্ব উদ্যোগে তার মালিকানাধীন সাহারা মডার্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। শহীদদের লাশ পরিবহনে তিনি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করেন এবং নিয়মিত এলাকাবাসীর জন্য মাসে একবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছেন। একজন মানবিক চিকিৎসকের ওপর এমন নৃশংস ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
-

মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘একপাক্ষিক ও অন্যায্য’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করল ইরান
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে একপাক্ষিক ও অন্যায় হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে দেশটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবে ইরানকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমিত করতে বলা হয়েছে, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি অস্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবটিতে সফল আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শর্ত নেই এবং এখনও কোনো বাস্তবসম্মত আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সরাসরি কোনো আলোচনা না হলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে ইরান পর্যালোচনা করছে।
তিনি আরও জানান, এই কূটনৈতিক উদ্যোগে তুরস্ক ও মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশ সহায়তা করছে। চলমান সংঘাত বন্ধে গণমাধ্যমে যে সরাসরি শান্তি আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়; বরং বাস্তবে পর্দার আড়ালে বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে চলছে।
-

ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নথিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কালবেলার হাতে চাঞ্চল্যকর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পৌঁছেছে, যেখানে আর্থিক অসংগতি এবং দ্বৈত বাজেটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দুদক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। কমিটিকে আগামী ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদেশের মূলবিন্দু
১. সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা।
২. যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
৩. অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত।
৪. জড়িতদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই করার নির্দেশ।প্রতিক্রিয়া
সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।
নথির বৈধতা
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা নথিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিল ও উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবিরের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ইন্টারনেটে ভুয়া সরকারি আদেশ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকায় নথির আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শতভাগ সত্যতা বলা কঠিন।
-

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার আশ্বাস সুইজারল্যান্ডের
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলিকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশ সংস্কার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি অতীত সরকারের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চান এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য কার্যকর সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডিজিটাল প্রতারণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতারণার বড় একটি অংশই অনলাইনে ঘটছে, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে একমত পোষণ করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি সীমিত এবং তা সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিটগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে একমত হয়ে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বৈঠকে উভয় পক্ষই মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এছাড়া পারস্পরিক আইনগত সহায়তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পৃথক বৈঠক করেন।
-

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন, শিগগিরই বিএনপির কাউন্সিল: মির্জা ফখরুল
চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বছরের মধ্যেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও এখনো নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়নি।
বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, এ বছরেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকার আশাবাদী।
দলীয় কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির সম্মেলনও চলতি বছরের মধ্যেই হওয়ার কথা রয়েছে। সময় এখনো নির্ধারণ না হলেও শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে।
সরকার ও দলের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার গঠনের পর অনেক নেতাই প্রশাসনিক দায়িত্বে চলে যাওয়ায় সাংগঠনিক কিছু সমন্বয় করতে সময় লাগছে। তবে দলীয় কার্যক্রম বন্ধ নেই, বরং তা সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ও দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করেছে। তার দাবি, তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে এবং দেশে জ্বালানির দাম বাড়েনি। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে ঈদের আগে বেতন-বোনাসসংক্রান্ত যে সংকট প্রায়ই দেখা যায়, এবার তা আগাম ব্যবস্থাপনার কারণে এড়ানো গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং জুলাই সনদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেসব বিষয়ে দল আনুষ্ঠানিকভাবে একমত হয়েছে, সেসব প্রতিশ্রুতির প্রতি তারা পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে যেসব বিষয় তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে, সেগুলো সবসময় গ্রহণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


