Category: জাতীয়

  • “আমাদের মাকে ফিরিয়ে দিন, না হলে হত্যাকারীদের ফাঁসি দিন”

    “আমাদের মাকে ফিরিয়ে দিন, না হলে হত্যাকারীদের ফাঁসি দিন”

    কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা–র হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে আবেগঘন আকুতি জানিয়েছে তাঁর ছোট্ট সন্তানরা।

    আজ শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব–এর সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ১০ বছর বয়সী মেয়ে ইফফাত তাইবা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমাদের মাকে ফিরিয়ে দেন। তা না হলে মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেন। আমার ভাইবোনগুলো রাতে ঘুমাতে পারে না। আমাদের মা রাতে কত আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিত। এখন আমাদের মা কোথায় পাব?”

    মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে আসে ইফফাতের বাবা ইমতিয়াজ সুলতান এবং তার অন্য তিন ভাইবোন—জান্নাতুল বুশরা (৭), আবরার সাজিদ (৩) ও ১৩ মাস বয়সী আয়েশা। ছোট ছোট সন্তানদের কান্না ও আহাজারিতে মানববন্ধনের পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।

    সকাল ১০টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং পরিবারের ব্যানারে মানববন্ধন শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিতে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

    মানববন্ধনে নিহত শিক্ষকের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান অভিযোগ করে বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।”

    গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

    এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিহত শিক্ষকের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

    মামলায় আসামি করা হয়েছে উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকারহাবিবুর রহমান–কে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে।

  • স্টারলিং ফার্মেসী-ডায়গনস্টিকসের উদ্যোগে নিউইয়র্কে ইফতার মাহফিল

    স্টারলিং ফার্মেসী-ডায়গনস্টিকসের উদ্যোগে নিউইয়র্কে ইফতার মাহফিল

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে স্টারলিং ফার্মেসী, স্টারলিং ডায়গনস্টিকস এবং ডাইনামিক একাউন্টিং সার্ভিসেসের উদ্যোগে বার্ষিক ইফতার মাহফিল ও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।

    রমজানের পবিত্রতা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় পরিবেশে কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সী প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে তাদের তেলাওয়াতের মাধ্যমে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন। বিচারকরা তাজবীদ, উচ্চারণ ও সুরের মানের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আলোচনা শেষে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত অতিথিরা একসঙ্গে ইফতার করেন। ইফতার পরবর্তী পর্বে কুরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে বসবাসরত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় গোল্ডেন প্যালেস, ১৪৫১ ইউনিয়ন পোর্ট রোড, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে।

  • রাজপথে সাহসী উপস্থিতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সজিব রায়হান

    রাজপথে সাহসী উপস্থিতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সজিব রায়হান

    ‎দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন ঢাকা জেলার উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সজিব রায়হান। রাজপথের পরীক্ষিত এই সংগঠক বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
    ‎‎
    ‎বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তার সহকর্মীরা। নির্বাচন বর্জনের দাবি, তথাকথিত ‘ডামি’ নির্বাচন বর্জন আন্দোলন, অসহযোগ কর্মসূচি, হরতাল, নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদসহ দল ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। অনেক সময় রাজপথে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মিছিল-মিটিং ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে।
    ‎‎
    ‎দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন সজিব রায়হান। কঠিন সময়েও তিনি কর্মীদের সাহস জুগিয়ে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। তার নেতৃত্বে ঢাকা জেলার উত্তর ছাত্রদলের অনেক কর্মসূচি রাজপথে দৃশ্যমান হয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

    ‎নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা, ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়—এসব গুণ সজিব রায়হানকে একজন আলাদা ধাঁচের সংগঠকে পরিণত করেছে। ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি বহুবার আন্দোলনের ময়দানে ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা।

    ‎বিগত সময়ে তার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে তাকে অনেক সময় মিছিলের অগ্রভাগে কিংবা কর্মীদের সাহস জোগাতে দেখা যায়, যা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে মত দেন অনেকে।

    ‎ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সজিব রায়হানের মতো ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান, তাহলে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং সংগঠন নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে।

    ‎তাদের বিশ্বাস, সাংগঠনিক দক্ষতা, দৃঢ় মনোবল এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে সজিব রায়হান ভবিষ্যতে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ধারায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

  • শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই রাবার, সাবমারসিবল পাম্প ও ক্যাবল উদ্ধার, আটক ৩

    শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই রাবার, সাবমারসিবল পাম্প ও ক্যাবল উদ্ধার, আটক ৩

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাই রাবার, সাবমারসিবল পাম্প ও ইলেকট্রিক ক্যাবল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি অভিযানিক দল উপজেলার ৪ নম্বর সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রোয়েল মিয়া (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কুঞ্জবন এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। পরে তার কাছ থেকে ৭০ কেজি ওজনের দুই বস্তা চোরাই রাবার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২১ হাজার টাকা।
    অপরদিকে শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে এসআই হারুন রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি অভিযানিক দল শ্রীমঙ্গল থানার রাধানগর এলাকার একটি লেবু বাগানে অভিযান চালায়। এ সময় মো. সুমন মিয়া (২২) ও মো. রিপন মিয়া (১৯) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। তারা হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তাদের কাছ থেকে একটি সাবমারসিবল পাম্প ও ইলেকট্রিক ক্যাবল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
    এছাড়া একই অভিযানে জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন ও সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত একজনসহ মোট ছয়জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
    শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে শুক্রবার তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • চাঁদাবাজি থেকে সরকারি প্রকল্পে বাধা: ময়মনসিংহে আইনের শাসনের পরীক্ষা

    চাঁদাবাজি থেকে সরকারি প্রকল্পে বাধা: ময়মনসিংহে আইনের শাসনের পরীক্ষা

    ময়মনসিংহ মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় গত ছয় মাসে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি,সশস্ত্র হামলা,সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা,সাংবাদিক ও শিক্ষা– প্রতিষ্ঠানের প্রতি হুমকি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন,পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীসহ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কালানুক্রমিক অভিযোগ ও ঘটনায় চোখ রাখা যায়: ২৩ জুন ২০২৫ – মাদ্রাসায় চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি। পালপাড়া,১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মদিনাতুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসায় রাত ১০টার দিকে ২০–২৫ জনের একটি দল ১,৫০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ – সরকারি সড়ক নির্মাণে বাধা। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কারিতাস মোড় পর্যন্ত নির্মাণ কাজ চলাকালীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ। পুলিশ মামলাটি গ্রেপ্তার সহ আদালতে পাঠালে পরদিন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ – সংবাদকর্মীর প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা। বলাশপুরে ২টি ইজিবাইক ও নগদ ২০,০০০ টাকা লুট, ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় এবং ভিডিও ধারণ করে “সংবাদ মিথ্যা” স্বীকার করানো হয়। পালপাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল–স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি সরকারি খোলা জায়গা দখল করে সেখানে মাদক ব্যবসা ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এলাকাটি ধীরে ধীরে মাদককেন্দ্র ও অপরাধ সংঘটনের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – পূর্ববর্তী ঘটনার প্রেক্ষিতে মোবাইল ভিডিও ধারণ করে “চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা” স্বীকার করানোর চেষ্টা। ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – ভোরে বাসায় অনুপ্রবেশ, ৩০,০০০ টাকা চাঁদা দাবিসহ লুটপাট ও ১০০ টাকার দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থা: স্থানীয়রা জাহাঙ্গীর ওরফে “সুন্দরী জাহাঙ্গীর” ও তার সহযোগীদের নাম উল্লেখ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব-১৪ ও সিআইডি তদন্তে নিয়োজিত। আইনগত কাঠামো: বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০,ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে এসব অভিযোগ শাস্তিযোগ্য। বিশেষত চাঁদাবাজি, ডাকাতি,জোরপূর্বক লিখিত ও ভিডিও স্বীকারোক্তি আদায়,সরকারি সম্পত্তি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ আইনের আওতায় পড়ে।
    প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া বনাম বাস্তবতা: প্রশাসন চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তবে পৃথক মামলার অগ্রগতি, ভুক্তভোগী সুরক্ষা এবং জামিন-পরবর্তী নজরদারি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে,তা এখনও পরিস্কার নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন: সরকারি জায়গা দখল করে অপরাধকেন্দ্র গড়ে ওঠার অভিযোগ সত্য হলে,তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক বিস্তার, অপরাধচক্রের প্রভাব বৃদ্ধি এবং নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশন: জিডি/এফআইআর নথি,ভিডিও ও অডিও প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ,সংবাদপত্র প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত। সুপারিশ:
    তাৎক্ষণিক: সমন্বিত তদন্ত টিম (পুলিশ + র‍্যাব + সিআইডি),ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ,ভুক্তভোগী ও সাক্ষী সুরক্ষা। দীর্ঘমেয়াদি: চাঁদাবাজি প্রতিরোধ টাস্কফোর্স,উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা প্রটোকল, জেলা পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিবেদন প্রকাশ।
    সর্বশেষ: যদি অভিযোগ গুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আইনের শাসন,প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক প্রশ্নে রূপান্তরিত। দ্রুত,দৃশ্যমান এবং নিরপেক্ষ তদন্তই জনমনে আস্থা পুনঃস্থাপন করতে পারে।

  • শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা জরুরি” – রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা জরুরি” – রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

    আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, “হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। কেবল অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মাধ্যমেই একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

    কৃষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করে পাট চাষে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, পাটের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে আধুনিক চাষাবাদের কোনো বিকল্প নেই।

    • নতুন পণ্য: বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ও আধুনিক পাটজাত পণ্য উদ্ভাবন করতে হবে।

    • সাশ্রয়ী ব্যাগ: পলিথিনের বিকল্প হিসেবে স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণনে জোর দিতে হবে।

    • ব্র্যান্ডিং: তরুণ প্রজন্মকে তাদের সৃজনশীলতা ও ‘স্টার্টআপ’-এর মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

    রাষ্ট্রপতির মতে, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত হয়ে পাটের সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর এখনই সময়।

  • সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণে অনিশ্চয়তা: বিপাকে হাজারো বাওয়ালি

    সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণে অনিশ্চয়তা: বিপাকে হাজারো বাওয়ালি

    ৩ মার্চ থেকে সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহের উৎসব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নৌকার ‘মাপ’ নিয়ে বন বিভাগের কড়াকড়িতে থমকে গেছে সব প্রস্তুতি। বছরের এই বিশেষ মৌসুমের আশায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উপকূলীয় জনপদের বাওয়ালিরা।

    বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, গোলপাতা সংগ্রহের নৌকার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা হতে হবে ১,০০০ মণ (১৮৬ কুইন্টাল)। কিন্তু খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তাদের পরিমাপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নৌকাই এই নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বড়।

    কেন এই কড়াকড়ি? বন কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে অনেকে ৫০০ মণের রাজস্ব দিয়ে বড় নৌকায় ১৫০০-২০০০ মণ পাতা বহন করতেন। এমনকি পাতার নিচে লুকিয়ে বনের মূল্যবান কাঠ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় এবার তাই নিয়মের কোনো ছাড় দিতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।

    বাওয়ালিদের দাবি, প্রতিটি নৌকা প্রস্তুত করতে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাওয়ালি ফেডারেশনের তথ্যমতে, এই মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    • বাওয়ালিদের প্রশ্ন: গত বছর একই নৌকায় অনুমতি মিললেও এবার কেন বাধা?

    • ক্ষোভ: গত জুন মাসে যখন নৌকার পাস নবায়ন করা হলো, তখনই কেন মাপ নেওয়া হলো না?

    সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়মের বাইরে কিছুই করা হবে না। অন্যদিকে, পরিবেশবাদীরাও বনের ওপর চাপ কমাতে এই কঠোর অবস্থানের পক্ষেই মত দিয়েছেন।

    • অনুমতির সময়: ৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত (২৮ দিন)।

    • নির্ধারিত সীমা: সর্বোচ্চ ১,০০০ মণ ধারণক্ষমতার নৌকা।

    • বিপাকে: প্রায় ১০ হাজার মানুষ যারা এই পেশার ওপর নির্ভরশীল।


    আপনার কি মনে হয়? সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে বন বিভাগের এই কঠোর সিদ্ধান্ত কি সঠিক, নাকি বাওয়ালিদের জীবনজীবিকার কথা ভেবে কিছুটা ছাড় দেওয়া উচিত ছিল?

    আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇

  • রাজধানীর চাঁনখারপুলে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু

    রাজধানীর চাঁনখারপুলে নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু

    রাজধানীর পুরান ঢাকার চাঁনখারপুলের একটি ভাড়া বাসা থেকে নাহিদা আক্তার ওরফে ববি (২৯) নামের এক সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নাহিদা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে চাঁনখারপুলের একটি ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় যায় পুলিশ। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায়, শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাহিদার নিথর দেহ ঝুলছে। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহত নাহিদার পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার প্ররোচনা হতে পারে। স্বজনদের দেওয়া কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:

    • নির্যাতনের অভিযোগ: স্বামী ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।

    • জেল ও মামলা: গত বছরের জানুয়ারিতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নাহিদা, যার ফলে ইলিয়াস জেলেও গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তারা আবার একসাথে থাকতে শুরু করেন।

    • চিরকুট উদ্ধার: মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট রেখে গেছেন বলে জানা গেছে, যেখানে তিনি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন।

    চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কাউছার জানান, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    নাহিদার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরে। তার আগের পক্ষের একটি সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। স্বামী ইলিয়াস হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

  • ৮০ বছর পর মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় রণতরী ধ্বংস!

    ৮০ বছর পর মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় রণতরী ধ্বংস!

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিল মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন। গত বুধবার শ্রীলঙ্কার অদূরে ভারত মহাসাগরে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) সলিল সমাধি হয়েছে।

    ⚓ কী ঘটেছিল সেই সকালে?

    পেন্টাগনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি শক্তিশালী টর্পেডো আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে বিশাল জলরাশি আকাশে আছড়ে পড়ে এবং শক্তিশালী রণতরীটি মাঝখান দিয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ভয়াবহ আক্রমণকে ‘নীরব মৃত্যু’ বলে অভিহিত করেছেন।

    📉 ফিরে দেখা ইতিহাস

    ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ‘ইউএসএস টর্স্ক’ জাপানি জাহাজ ডুবিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে মার্কিন সাবমেরিনগুলো বিভিন্ন মিশনে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করলেও, কোনো জাহাজ ডোবাতে টর্পেডো ব্যবহার করেনি।

    🚀 যে মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে

    মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, এই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘মার্ক-৪৮’ (Mark-48) হেভিওয়েট টর্পেডো।

    • ওজন: প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড।

    • কৌশল: এটি সরাসরি জাহাজে আঘাত না করে জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। ফলে পানির নিচে সৃষ্ট গ্যাসের বুদ্বুদ আস্ত একটি যুদ্ধজাহাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

    🆘 উদ্ধার অভিযান

    শ্রীলঙ্কার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন ক্রু ছিলেন। বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

  • জামালগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ওয়েভ এর মানববন্ধন

    জামালগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ওয়েভ এর মানববন্ধন

    সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নারী শান্তি সহায়কদের প্ল্যাটফর্ম (ওয়েভ), জামালগঞ্জ। বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়–এর সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ জামালগঞ্জের সমন্বয়কারী ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিনারা আক্তার এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সমন্বয়কারী সানিয়া আখি।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামালগঞ্জ পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর বীণা রানী তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আলেয়া বেগম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক ওয়ালী উল্লাহ সরকার ও জাতীয় পার্টির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর একে কুদরত পাশা।
    বক্তারা বলেন, আজ আমরা এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছি, যখন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের খবর বিবেককে নাড়া দেয়।
    এ বছরের প্রতিপাদ্য-“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”-শুধু একটি শ্লোগান নয়, এটি সময়ের দাবি। বক্তারা বলেন, দেশে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সামাজিক অবক্ষয়, অনলাইন হয়রানি, মাদকাসক্তি, পারিবারিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারী ও শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
    তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের চাপ ও সামাজিক লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান না, ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে। নারী ও কন্যার নিরাপত্তা কেবল নারীর ইস্যু নয়-এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
    মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক মহিলা সম্পাদিকা খালেদা আক্তার, অর্চনা দাস, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি আয়শা ছিদ্দিকা, সাবেক সভাপতি কল্পনা আক্তার, সারমিনা আক্তার, সালমা খাতুন, রুমেনা আক্তার ও মারিয়া আক্তার প্রমুখ।
    সমাবেশ থেকে বক্তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং নারী ও কন্যার অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আজকের সাহসী পদক্ষেপই আগামীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং সুরক্ষিত নারী ও কন্যাই গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।##

     

    সাইফ উল্লাহ

    মোবা: ০১৭১২৪৫১৪৪৬

    তারিখ: ৪/৩/২৬