পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে উত্তেজনা, মালদার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। মালদা জেলায় নির্বাচন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।

জানা গেছে, বুধবার মালদায় তিনজন নারী কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রায় নয় ঘণ্টা একটি ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে ঘেরাও করে রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের প্রতিবাদেই বিক্ষোভকারীরা ওই কর্মসূচি পালন করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত মনে করছে, এমন ঘটনা কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে এবং নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বেসামরিক ও পুলিশ প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর অভিযোগ, এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, মালদার ঘটনার বিষয়ে তাকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এবং তিনি বিষয়টি জানতে পারেন দেরিতে। তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এটি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিষয়টি এখন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।