বৃহস্পতিবার পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাভার চৌরঙ্গী মার্কেটে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাভার পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী জনাব লায়ন মোঃ খোরশেদ আলম। তিনি তার বক্তব্যে রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মিজানুর রহমান ও আরিফুল ইসলাম রানা। আয়োজকরা জানান, রমজানের শিক্ষা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত রাখার লক্ষ্যেই এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।
আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি সাভার চৌরঙ্গী মার্কেট এলাকায় সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে উপস্থিতরা মত প্রকাশ করেন।
Blog
-

সাভার চৌরঙ্গী মার্কেটে দোয়া ও ইফতার মাহফিল, সম্প্রীতির বার্তা
-

এমপির পিএস হয়ে শত কোটির মালিক শরীফ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে ফুলেফেঁপে ওঠেন বিএনপি’র বহু সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তাদের পিএস এবং এপিএসরাও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন। দামি গাড়ি কিনেছেন, বিশাল বাড়ি গড়েছেন, আর ক্ষমতার সংস্পর্শে জীবনযাত্রা বদলে গিয়েছে একেবারেই নতুন রূপে।
সর্বশেষ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছরে সাভার-আশুলিয়ার এমপি ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার দাপট, টেন্ডার, কমিশন ও তদবির-বাণিজ্য এবং চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির মাধ্যমে বিত্তশালী হয়েছেন কথিত পিএস মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম শরীফ।
২০২৪ সালের আগে তার এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল সীমিত; কিন্তু ক্ষমতার সংস্পর্শে এসে সেই চিত্র দ্রুত পাল্টে গেছে।
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর কথিত পিএস শরীফুল ইসলাম শরীফ পেশাগতভাবে শুরু করেছিলেন পোশাক কারখানায় চাকরি করে। অথচ এখন তিনি আনুমানিক প্রায় ১১৪ কোটি টাকার মালিক।
২৬ জুন ১৯৭৩ সালে পাথালিয়া ইউনিয়নের ধনিয়া গ্রামের আছার উদ্দিন আহমেদের ছেলে শরীফ, ৫ আগস্টের পর পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে মিলে প্রথমে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ইপিজেড এলাকার তিনটি গার্মেন্টস নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুরো ইপিজেড এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দৈনিক প্রায় ১ কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করছেন তিনি।
শরীফ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এমপির নাম ভাঙিয়ে পাথালিয়া ইউনিয়নের গণ বিদ্যাপীঠ স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ দখল করেন। স্কুলের শিক্ষক ও কর্মীদের উপর ভয়-ভীতি চালিয়ে অর্থ আদায় এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।
পাথালিয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকার ধলেশ্বরী ও বংশী নদীর সংযোগস্থলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিরুলিয়া ইউনিয়নের তুরাগ নদী থেকেও বালি উত্তোলন করে অর্থ উপার্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের রিপোর্টে বিষয়টি উঠে আসলে, তিনি অর্থ দিয়ে তা ম্যানেজ করেছেন।
নয়ারহাট বাজারের সরকারি জমি নিজ নামে লিজ নিয়ে অর্ধ শতাধিক দোকান বসিয়ে এককালীন দোকান প্রতি তিন লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে দোকান প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেন। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা থাকলেও সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনকে বিনিময়মূলকভাবে বহাল রেখেই পৌরসভার টেন্ডার ও হাট বাজারের নিয়ন্ত্রণ করে অর্থ আদায় করেন।
শরীফ প্রায় নিয়মিতভাবে বিদেশ ভ্রমণ করেন-থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, দুবাই-এবং বিলাসিতার জন্য ক্যাসিনো খেলেন। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র সহকারী সচিবের নাম ভাঙিয়ে এমপির কাছ থেকেই অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও সাংবাদিকদের সম্মানী হিসাবেও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
আশুলিয়া থানায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকরিজীবীর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে অন্তত ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সার্বিক বিষয়ের উপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিপোর্ট করেছে।
শরীফ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভিড়িয়ে তাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করেছেন। ডিস ব্যবসা, ইন্টারনেট ব্যবসা, এমনকি মাদক ব্যবসাও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এক কথায়, গার্মেন্টস কর্মী থেকে শতকোটির মালিক-এমপির পিএস মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম শরীফের কাহিনী সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার এক স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তোলে, যা বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
-

ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জি দোকানে
মাগুরা শ্রীপুরে লাঙ্গলবাধ বাজারে রমজানের শুরু থেকেই ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জি দোকানে। গজ কাপড় কিংবা আনস্টিচ পোশাক কিনে সবাই ছুটছেন কারিগরের কাছে। এই ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাধ বাজারে দর্জি কারিগররা। রোজার আগে থেকে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছুদিন অর্ডার নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা।
ঈদকে সামনে রেখে এখন সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর দর্জির দোকানগুলো। বাহারি নকশার কাপড় বানাতে সেখানে ভিড় করছেন অনেকেই। দর্জি কারিগরদের দম ফেলার সময় নেই এখন। অবশ্য ব্যস্ততা শুরু হয়েছে রোজার আগে থেকেই।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি দোকানিরা। নতুন কাপড় তৈরি করতে দর্জি দোকানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বেশি ইনকামের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দর্জি কারিগররা।লাঙ্গলবাধ বাজারে ঘুরে দেখা যায়, কাটার মাস্টারের কাঁচি চলছে নতুন কাপড়ের ওপর। সেই কাপড় চলে যাচ্ছে কারখানার কারিগরের হাতে। কারিগরেরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন নতুন পোশাক। কারখানা জুড়ে সেলাই মেশিনের ঘটঘট শব্দ। অবিরাম ঘুরছে সেলাই মেশিনের চাকা। তৈরি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট,পায়জামা, পাঞ্জাবিসহ মেয়েদের বাহারি ডিজাইনের সব পোশাক।
লাঙ্গলবাধ বাজার, পুরাতন বাজার, কাপুর গলি রোড এলাকায় নতুন কাপড় তৈরি করতে ব্যস্ত রয়েছেন দর্জি কারিগররা। তাদের হাতে যেন মোটেও সময় নেই। কেউ কেউ অর্ডার দিচ্ছেন নতুন শার্ট প্যান্টের, কেউবা নতুন পাঞ্জাবির, অনেক নারী ক্রেতা অর্ডার দিচ্ছেন জামা বানানোর।
প্রতি পিস প্যান্ট সেলাই হচ্ছে ৪০০-৫৫০ টাকা, শার্ট ৩০০-৪৫০টাকা,পাঞ্জাবি ও পায়জামা নেওয়া হচ্ছে ৫০০থেকে ৬০০,মেয়েদের লেহেঙ্গা ৪০০-৫০০ টাকা, থ্রি পিস প্রকারভেদ অনুযায়ী ৩০০-৪০০ টাকা, ব্লাউজ পেটিকোট ২০০-৩০০ টাকা, বাচ্চাদের পোশাক ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয় মজুরি। নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে তৈরি পোশাক সরবরাহ করতে হবে অর্ডারকৃত ক্রেতাদের কাছে। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেলাইয়ের কাজ। কেউ মাপ নিচ্ছে কেউ কাপড় কাটছে কেউ আবার সেলাই করছে কেউ বোতাম লাগিয়ে আয়রন করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা সাজিয়ে রাখছে দোকানে। আর এসব কাজ সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি টেইলার্সে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিয়েছেন মালিকরা।লাঙ্গলবাধ হাই স্কুল রোড অনুপ মার্কেট সুমন টেইলার্সে কাপড়ের দোকানে তৈরি করতে এসে মুন্নি পারভীন জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নতুন পোশাক পড়তে। তাই নিজের পছন্দমতো কাপড় গজ আকারে কিনে পছন্দমতো সুমন টেইলার্স দর্জির দোকানে বানাতে দেই।
আলীম টেইলার্সে আলীম হোসেন বলেন, বিরতিহীনভাবে রাতভর কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক পোশাক তৈরির কাজ চালানো হচ্ছে। তবে ২০ রমজানের পরে আমরা আর অর্ডার নেব না। আমরা আশা করছি যদি বিদ্যুতের সমস্যা না থাকে তাহলে সবাইকে সময়মতো কাপড় ডেলিভারি দিতে পারব।
-

জগন্নাথপুরে অবৈধভাবে কাটা মাটি পরিবহনের অপরাধে দুই জনকে জরিমানা
জগন্নাথপুরে অবৈধভাবে হাওর থেকে কাটা মাটি পরিবহনের অপরাধে দুইজনকে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত এর বিচারক মোঃ মহসিন উদ্দিন।
সুত্রে জানাযায়, ৩ রা মার্চ রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসীন উদ্দিন এর নেতৃত্বে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এর উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর বাজারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে টহল ও মোবাইল কোর্ট অর্থাৎ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় হাওর থেকে অবৈধভাবে কাটা মাটি পরিবহনের অপরাধে বালু মহাল ও মাটি কাটা ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ১৫(১) আওতায় দুই জন ট্টাক চালককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড প্রধান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দীন। এবং এই মাটি কাটার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহসিন উদ্দীন বলেন, অবৈধভাবে হাওরে কাটা মাটি পরিবহনের অপরাধে বালু মহাল ও মাটি কাটা ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ১৫(১) এর আওতায় দুইজনকে জরিমানা করা হয়েছে।
জনস্বার্থে এধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে। -

জামালগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ওয়েভ এর মানববন্ধন
সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নারী শান্তি সহায়কদের প্ল্যাটফর্ম (ওয়েভ), জামালগঞ্জ। বুধবার দুপুরে জামালগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়–এর সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়েভ জামালগঞ্জের সমন্বয়কারী ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিনারা আক্তার এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সমন্বয়কারী সানিয়া আখি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামালগঞ্জ পিএফজির নারী অ্যাম্বাসেডর বীণা রানী তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আলেয়া বেগম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক ওয়ালী উল্লাহ সরকার ও জাতীয় পার্টির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর একে কুদরত পাশা।
বক্তারা বলেন, আজ আমরা এমন এক সময়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছি, যখন দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের খবর বিবেককে নাড়া দেয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য-“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”-শুধু একটি শ্লোগান নয়, এটি সময়ের দাবি। বক্তারা বলেন, দেশে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সামাজিক অবক্ষয়, অনলাইন হয়রানি, মাদকাসক্তি, পারিবারিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারী ও শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। দীর্ঘসূত্রতা, প্রভাবশালীদের চাপ ও সামাজিক লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পান না, ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে। নারী ও কন্যার নিরাপত্তা কেবল নারীর ইস্যু নয়-এটি মানবাধিকারের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক মহিলা সম্পাদিকা খালেদা আক্তার, অর্চনা দাস, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি আয়শা ছিদ্দিকা, সাবেক সভাপতি কল্পনা আক্তার, সারমিনা আক্তার, সালমা খাতুন, রুমেনা আক্তার ও মারিয়া আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে বক্তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং নারী ও কন্যার অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আজকের সাহসী পদক্ষেপই আগামীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং সুরক্ষিত নারী ও কন্যাই গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।##সাইফ উল্লাহ
মোবা: ০১৭১২৪৫১৪৪৬
তারিখ: ৪/৩/২৬
-

বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীর ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৫টায় বীরগঞ্জ থানার এসআই আতাউর রহমান ও এএসআই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের ধুলাউড়ী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোতালেব হোসেনের ছেলে সিরাজুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককালে তার কাছ থেকে গাঁজা সেবনের সরঞ্জামাদিসহ প্রায় ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) ধারায় তাকে ১০০ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
-

লালপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় অস্ত্রের মহড়া, আতঙ্ক
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহরকয়া গ্রামের সিরাজ গাইনের ছেলে ও বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসলাম উদ্দিন এবং সুমন কসাইয়ের ছেলে সোহানের নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল পিস্তলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোহরকয়া কয়লার ডহর এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রবিন নামের এক ব্যক্তির দোকানেও হামলার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, গত বুধবার (৪ মার্চ) সোহানের নেতৃত্বে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে জমির মালিকরা এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পরদিন অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে।
জমির মালিকদের অভিযোগ, তাদের জমির ফসল নষ্ট করে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাধা দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল পিস্তল, লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে এসে মহড়া দেয় এবং রবিনের দোকানে হামলা চালায়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসলাম উদ্দিন বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” পরে তিনি ফোন কেটে দেন এবং আর ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি এবং থানায় অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -

হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে সাহসী ভূমিকা রাখায় পুলিশ পরিদর্শককে পুরস্কৃত করলেন কেএমপি কমিশনার
গত ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ৯ ঘটিকায় খুলনা সদর থানাধীন ডাকবাংলা মোড় সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনে ভিকটিম মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৪৭)-কে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত ও পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ আলম তাৎক্ষণিক সাহসী ভূমিকা গ্রহণ করে জনসাধারণের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী অশোক ঘোষ (৩৮)-কে একটি বিদেশী পিস্তলসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
উক্ত ঘটনায় সন্ত্রাসী গ্রেফতারে অসীম সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ায় ০৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ বেলা ১১:৩০ ঘটিকায় কেএমপি হেডকোয়র্টার্সে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ আলমকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
এ সময় কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা উপস্থিত ছিলেন।
-

শান্তিগঞ্জে সাইফ উল্লাহ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শান্তিগঞ্জ ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ-এর উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় তরুণদের সামজিক উদ্যোগ প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারী মানসুর আহমেদ এর সভাপতিত্বে এবং শান্তিগঞ্জ ওয়াইপিএজির যুগ্ম সমন্বয়কারী সীমা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ পিএফজির পিস এম্বাসেডর সিরাজ মিয়া, জিয়াউর রহমান জিয়া, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবু সাইদ, জুলাই যুদ্ধা েআলী আহমদ দুলাল।
বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কুদরত পাশা।
সভায় জানানো হয়, পিএফজি উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী ও সহনশীল সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণে সংগঠনটি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-সম্প্রীতি জোরদারে ইয়ুথ পিস এম্বাসেডর গ্রুপ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা তারাজুল হক রাসেল, জাহিদুল ইসলাম, খাইরুল আলম সাব্বির, ইকবাল হোসেন, আশরাফ উদ্দিন, কাওসার আলম, কবি আহমদ, শাওন, লিজা আক্তার, ঝুই রানী, আমিনা বেগম, রুহুল আমীন, আবু সাইদ, প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, আজকের এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ। “সংঘাত নয়, শান্তি-সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”-এই শ্লোগান শুধু একটি বাক্য নয়; এটি ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতি এগিয়ে যায়।
তরুণরাই দেশের শক্তি ও পরিবর্তনের অগ্রদূত উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আজকের যুবসমাজ যদি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে, তাহলে সংঘাতের সব দেয়াল ভেঙে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। শান্তি প্রতিষ্ঠা কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, গুজব প্রতিরোধ এবং বিভেদের বদলে ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শেষে সবাইকে হিংসা ও বিভেদ পরিহার করে মানবতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।##সাইফ উল্লাহ
মোবা: ০১৭১২৪৫১৪৪৬
তারিখ: ৫/৩/২৬ -

জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম।
এর আগে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছে পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে তিনি এনসিপি এবং দুপুরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা এবং পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও তিনি যোগ দেবেন।