অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি সংসদ অধিবেশনে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করে ভবিষ্যতে আরও যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুনভাবে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রয়েছে, যেমন শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং দায়মুক্তি সংক্রান্ত আইন।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়। সেই হিসেবে আলোচিত ২০টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময় শেষে বাতিল হয়ে যাবে।
যে চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, এর সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান। বিচার বিভাগে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের উদ্দেশ্যে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গণভোট, গুম প্রতিরোধ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংকসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এখনই পাস না করে পরে আরও পর্যালোচনা করে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, শ্রম আইন, পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে সংসদে আনার কথা বলা হয়েছে, যদিও কী ধরনের সংশোধন আনা হবে তা প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ভিন্নমত দিয়েছেন। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোতে তাদের আপত্তি রয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১২ মার্চ সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির এই প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সংসদে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।