মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং শত্রুপক্ষের ‘ভুয়া অপারেশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
যৌথ তদন্তের প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে যেকোনো দাবি যাচাই করতে যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তুরস্কের দাবি: এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের ভূখণ্ডে চার দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার চতুর্থটি ন্যাটো বাহিনী রুখে দেয়।
ইরানের সেনাবাহিনী দেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে।
ইস্পাহান অভিযান: মঙ্গলবার ভোরে ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইস্পাহানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি মার্কিন তৈরি এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এটি দীর্ঘ সময় নজরদারি চালাতে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক আকাশযান।
কাসেম দ্বীপে হামলা: এছাড়া পারস্য উপসাগরের কাসেম দ্বীপের ওপর একটি ‘লুকাস ড্রোন’ ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে যে, ইসরায়েল লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলের একটি সুদূরপ্রসারী ‘নীল নকশা’ বা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এই পরিস্থিতি সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
বাজারের অস্থিরতা: ইইউ জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
জরুরি বৈঠক: চলমান সংকট মোকাবিলায় আজ জরুরি বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি মন্ত্রীরা। সেখানে সমন্বিত পদক্ষেপ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স ও প্রেসটিভি।