বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলিকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশ সংস্কার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি অতীত সরকারের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চান এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য কার্যকর সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডিজিটাল প্রতারণা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতারণার বড় একটি অংশই অনলাইনে ঘটছে, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে একমত পোষণ করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি সীমিত এবং তা সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ইউনিটগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে একমত হয়ে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
বৈঠকে উভয় পক্ষই মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এছাড়া পারস্পরিক আইনগত সহায়তা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পৃথক বৈঠক করেন।