মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটি প্রায় এক লাখ রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অতিরিক্ত অপারেশনাল এলাকা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রিজার্ভ সদস্যদের তলব করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত চলমান অভিযান ‘Operation Roaring Lion’-এর আওতায় বিভিন্ন ফ্রন্ট শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
লেবাননে হামলা, হতাহত
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা হিজবুল্লাহ–র বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধ’ শুরু করেছে। রাজধানী বৈরুত–এর দক্ষিণ উপশহর ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
এর জবাবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এটি তেল আবিবের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা
গত শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে কয়েক শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পাল্টা হিসেবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অভিযোগ করছে, ইরান এমন পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে যা ইসরায়েল ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রিজার্ভ সেনা মোতায়েন ও বহুমুখী সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত ইরান-লেবাননের সীমা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
















